আমন ধানের শীষ বের হতে শুরু করেছে। ঠিক এমন সময় দিনাজপুরের হিলিতে দেখা দিয়েছে কারেন্ট ও মাজরা পোকার আক্রমণ। গাছের গোড়া কেটে দেয়ায় ধানের শীষ শুকিয়ে সাদা হয়ে যাচ্ছে। কীটনাশক ছিটিয়েও সুফল না মেলায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক। সেই সঙ্গে রয়েছে ইঁদুরের উপদ্রব। এতে ফলন বিপর্যয় আশঙ্কা করছেন কৃষক।
চাষীরা বলছেন, প্রতি তিন-চারবার কীটনাশক প্রয়োগ করতে হচ্ছে। সারের দাম বেশি থাকায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। সব মিলিয়ে বিঘাপ্রতি ১২-১৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে তাদের। এ অবস্থায় ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
হিলির বোয়ালদাড় গ্রামের কৃষক আজগর আলী বলেন, ‘লাভের আশায় এবার তিন বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকায় গাছ বেশ হৃষ্টপুষ্ট হয়েছিল। কয়েকদিনের মধ্যে ধানের শীষ বের হবে। এমন সময়ে ধানে দেখা দিয়েছে কারেন্ট ও মাজরা পোকার আক্রমণ। আগে এক থেকে দুবার কীটনাশক প্রয়োগ করেই পোকা দমন করা সম্ভব হচ্ছিল। তবে এবারের চিত্র উল্টো। এখন পর্যন্ত চারবার কীটনাশক প্রয়োগ করেছি। তার পরও পোকার উপদ্রব কমার কোনো লক্ষণ দেখছি না। কারেন্ট পোকার আক্রমণে ধানের গাছ হলুদ বর্ণের হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। আবার কিছু পোকা গোড়া কেটে দেয়ায় গাছ শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। এতে এবার উৎপাদন খরচ বেশি হচ্ছে। যদি ধানের ভালো দাম না পাই তাহলে লোকসান গুনতে হবে।’
হাকিমপুর উপজেলা অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার অধিক ৮ হাজার ১১৮ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে, যা গত বছরের থেকে এক হেক্টর বেশি।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন, ‘অধিকাংশ জমিতে ধানের শীষ বের হয়ে যাওয়ায় পোকার আক্রমণে তেমন একটা ক্ষতি হবে না। সমস্যা সমাধানে কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এখন আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। এমন পরিস্থিতি বিরাজ করলে কৃষক কাঙ্ক্ষিত ফলন পাবেন।’